জোড়া খুনের প্রধান আসামী শাকিলকে আটক করায় বিপাকে পুলিশ -বাদীপক্ষ 

জোড়া খুনের প্রধান আসামী শাকিলকে আটক করায় বিপাকে পুলিশ -বাদীপক্ষ 
উখিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি :: টেকনাফের নাফ নদীর স্থল বন্দর সংলগ্ন জইল্ল্যারদিয়া জেটিঘাট থেকে ৪ অক্টোবর সকাল ৯ টায় বস্তাবন্দি,হাত-পা বাধা অবস্থায় ২ কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়।ওই জোড়া খুনের প্রধান আসামী মো:শাকিলকে আটক করেছে পুলিশ।৩১ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বালুখালী কাসেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় আটক করে তাকে।কিন্তু পুলিশ বলছে হত্যা মামলার আসামী বলায় প্রথমে হেফাজতে নিলেও খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন শাকিলের নামে টেকনাফ থানায় মামলা বা ওয়ারেন্ট নেই।আদালতে করা পিটিশনে ১ নং অভিযুক্ত হলেও গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই।ফলে বাদীপক্ষের অভিযুক্ত আসামী শাকিলকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে পুলিশ। নিহত ২ কিশোর আর শাকিল ছিল সমবয়সী বন্ধু।গাড়ী চালক হিসেবে তাদের মধ্যে ইয়াবার চালান গায়েব করা নিয়ে নিহত ২ কিশোরের উপর ক্ষুদ্ধ ছিল শাকিল সিন্ডিকেট। তারই জেরে পরিকল্পিত হত্যার শিকার সরওয়ার আবছার আর ছৈয়দুল ইসলাম, এমনটাই দাবী নিহতের পরিবারের।হত্যার ঘটনায় আটক শাকিল টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের পুরান পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদের ছেলে।বাদীপক্ষের আদালতে দায়ের করা আর্জি সুত্রে জানাগেছে,আটক শাকিলের সিএনজি গাড়ী করে গত ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮ টায় তার অপরাপর সহযোগীদের নিয়ে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালীর আবদুল হকের ছেলে গাড়ী চালক সরওয়ার আবসার(১৬) ও টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে ছৈয়দুল ইসলাম(১৫)কে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়।রাত গভীর পর্যন্ত তারা বাড়ীতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেলেও পরদিন ৪ অক্টোবর দুজনের লাশ পাওয়া যায় টেকনাফ স্থল বন্দরের জইল্যারদিয়া জেটিঘাট সংলগ্ন নাফ নদীতে।ওইদিন টেকনাফ থানায় একটি অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা রুজু হয়।পরে আসামী সনাক্ত পূর্বক মামলা দায়ের করার চেষ্ঠা করলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় রহস্যজনক কারণে টেকনাফ থানা মামলা গ্রহণ করেনি।নিরুপায় হতদরিদ্র বাদীপক্ষ গত ২২ অক্টোবর কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৪ জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক ৪/৫ অজ্ঞাত নামা সহ ৯ জনকে অভিযুক্ত মামলা করেন হত্যার শিকার সরওয়ার আবছারের ভাই নুরুল আবছার।মামলাটি টেকনাফ থানাকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।মামলার আসামীরা হলেন বাহারছড়া পুরান পাড়ার মৃত মোজাফফর আহমদের ছেলে শাকিল(২৫),চকরিয়ার বদরখালী জেটির আদর্শ গ্রামের মিন্টু, লিটন প্রকাশ মিটন ও বাহারছড়ার শাপলাপুর নোয়াপাড়ার মৃত আহমদ কবিরের ছেলে রিদুয়ান।তৎমধ্যে শাকিলকে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ উখিয়া থানায় সোপর্দ করেছে বলে জানান এসআই রাজেস বড়ুয়া।তিনি বলেন হাইওয়ে পুলিশ আটক করেনি। বাদী পক্ষের লোকজন ধরেছে।হত্যা মামলার আসামী বলাতে আইনী প্রক্রিয়ার জন্য উখিয়া থানায় পাঠানো হয়।উখিয়া থানা থেকে টেকনাফ থানার হোয়াইক্য পুলিশ ফাঁড়ীতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো:আবুল খায়ের।১ নভেম্বর বিকেলে এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় পর্যন্ত উক্ত আসামী নিয়ে বিপাকে আছে পুলিশ আর বাদীপক্ষ।অপর দিকে হত্যাকারীরা প্রভাবশালী ইয়াবা পাচারকারী চক্র।তারা হত্যার দায় থেকে রক্ষা পেতে মোটাংকের মিশন নিয়ে প্রশাসনের নিকট তদবির চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিহতদের স্বজনরা দাবী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*