রাজশাহীতে ঐক্যফন্টের সমাবেশে জনতার ঢল

রাজশাহীতে ঐক্যফন্টের সমাবেশে জনতার ঢল

আমানুল্লাহ (রাজশাহী প্রতিনিধি): রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিশাল জনসভায় লাখো জনতার ঢল দৃশ্যমান হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে ঐক্যফ্রন্টের শরীক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার বিকালে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদাজিয়ার  উপদেষ্টা ও ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনু। জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতাকালে বিএনপি মহাসচিব বলেন,এ সরকার পুলিশ দিয়ে, বন্দুক দিয়ে, পিস্তল দিয়ে জনগনের অধিকার আটকে রাখতে চায়। নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,সমান মাঠ তৈরি করতে হবে।সকল দলকে সমান অধিকার দিতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে অন্যথায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবেনা। এসময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দাবি আদায় করার আহবান জানান তিনি। জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ,ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী,নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে,ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন অসুস্থতার কারনে  সমাবেশে যোগ দিতে না পারলেও মুঠোফোনে বক্তব্য ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। জনসভায় বক্তব্যে জেএসডি সভাপতি আ.স.ম. আব্দুর রব বলেন, দাবি মানতে হবে। জান দেব;দাবি ছাড়বনা। মরতে হলে মরব, দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে  দৃঢ়তার সাথে তিনি বলেন, এ লড়াই গণতন্ত্রের।এতে জিততে হবে। লড়াই,লড়াই,লড়াই চাই! লড়াই করে বাঁচতে চাই! জনসভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি বলেন,  ‘এই জনসভায় উপস্থিত মহিলাদের অর্ধেক মহিলা আমার দলে থাকলে তিনদিনের মধ্যে হাসিনার পতন ঘটিয়ে ছাড়তাম’। তিনি আরও বলেন, ‘বলে গেলাম হাসিনার আমলে পুলিশে চাকরি পাওয়া সবাইকে ‘ঘুষের’ ১০ লাখ করে টাকা ফেরত দেয়া হবে!’ নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,নির্বাচনে যেতে চাই তবে হাসিনার অধিনে নয়।ঐক্যফ্রন্ট সংঘাত চাইনা; কিন্তু হাসিনাকেও চাইনা। নৌকার পতন ঘটিয়ে ছাড়ব। ‘জোয়ার অনেক। এই জোয়ারে নৌকা ভেসে যাবে’ বলেও বক্তব্য দেন  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন – জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর এ্যানি, নির্বাহী সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ প্রমুখ। এদিকে, জনসভা সফল করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো জনতা নগরীর মাদরাসা মাঠে জমায়েত হয়। খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে তার মাদ্রাসা ময়দানে যোগদান করেন।  বাস বন্ধ  থাকায় আশেপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে ছোট ছোট যানবাহন নিয়ে লোকজন আসে।  রাজশাহী অভিমুখী নেতাকর্মীরা আসতে পদে পদে সমস্যায় পড়েছেন বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*